সিলেটে ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজিরা দেওয়ার পথে ফেঞ্চুগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন জুনেদুল ইসলাম (২৭)। অপরদিকে ব্যবসার অর্থের লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে সোমবার রাতে সিলেট নগরীতে ভাগনে মিজানুর রহমান রাফিকে (২৪) হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর মামার বিরুদ্ধে। দুই হত্যাকাণ্ডে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। জানা গেছে, বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের কলমপুর গ্রামের কনাই মিয়ার ছেলে জুনেদুল ইসলাম তাঁর বড় ভাই জাহেদুল ইসলামকে নিয়ে সিলেটের আদালতে হাজিরার জন্য বের হন। সিএনজি অটোরিকশাযোগে তারা বাড়ি থেকে যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের রুকনপুর গ্রামে তাদের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। গাড়ি থামিয়ে দেশীয় অস্ত্রে চালানো হামলায় ঘটনাস্থলেই মারা যান জুনেদুল। আহত জাহেদুলকে প্রথমে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ধান চুরি নিয়ে জুনেদুলের সঙ্গে একই গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলীর বিরোধ চলছিল। ২০২২ সালে মোহাম্মদ আলীর এক চাচার পা কেটে ফেলে জুনেদুলরা। সেই থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়। একটি মামলায় হাজিরা দিতে বাড়ি থেকে বের হন জাহেদুল। ফেঞ্চুগঞ্জ থানার পরিদর্শক আরিফ হোছাইন জানান, নিহত ব্যক্তি ও হামলাকারী একই এলাকার বাসিন্দা। মামলা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের বাবা মামলা করেছেন। অপরদিকে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর শাহজালাল উপশহরের ই-ব্লকের ২ নম্বর রোডের বাসা থেকে মিজানুর রহমান রাফির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রাফি গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জের মাইজগাঁওয়ের আব্দুল বারীর ছেলে। উপশহর এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। দুপুরে রাফি ও তাঁর মামা জকিগঞ্জের বারহাল ইউনিয়নের বোরহানপুর গ্রামের বদরুদ্দিনের ছেলে আবু সুফিয়ানকে বাসায় রেখে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে চলে যান। রাতে ফিরে তারা বাসা তালাবদ্ধ দেখেন। মামা সুফিয়ানকে বাসায় পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। মামা ও ভাগনের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন শাহপরাণ থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।